শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০১:৫৯ অপরাহ্ন
ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যায় জড়িত ৩ জন আটক লকডাউন এর সপ্তম দিনেও আগৈলঝাড়ার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা গলাচিপায় রুহুল হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি গ্রেপ্তার রাজশাহী সাইবার ক্রাইম টিমের জালে আটক এক প্রতারক রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত আইডিয়াল কলেজ,ধানমন্ডিতে স্নাতক(সম্মান)শ্রেণিতে ভর্তি চলছে। নড়াইল কালিয়ার ৪ নং মাউলি ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সী জহিরুল হক জুংগু মৃত্যুবরন করেন । নড়াইল জেলার কঠোর লকডাউন প্রশাসনের দুর্বল বলেছেন সাংবাদিক এনামুল হক ক্যান্সারে আক্রান্ত পিতা’কে বাঁচানোর আকুতি কলেজ পড়ুয়া মেয়ের নড়াইল জেলাব্যাপী সরকার কতৃক কঠোর লকডাউনের ঘোষনাকে অমান্য করছে জনগন।

সাংবাদিকতার অপব্যবহার পরিহার ও সুস্থ ধারা সাংবাদিকতা।

মঞ্জুর লিটন বরিশাল জেলা প্রতিনিধিঃ / ১৩৩ বার
সময় : বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১, ৬:৩৪ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিকতার ক্রান্তিলগ্নে আজ দুই একটি কথা না বললেই না। সাংবাদিকতা একটা মহৎ পেশা। এটা একটা সেবামূলক পেশা/ নেশা। একটা নিউজ করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দেওয়াকে সত্যকারের সাংবাদিকতা বলে / সেবা বলে। কিন্তু আজ দেখা যাচ্ছে প্রত্যেকের ঘরে ঘরে একটা একটা সাংবাদিক কিন্তু কাজের বেলা ঠনঠন। তাকে দেখা যায়না কোন মাঠে। উদাহরন স্বরূপ খেলোয়ার যদি মাঠে না থাকে সে গোল দিবে কিভাবে? কিন্তু আজ বর্তমান যুগে এমনি অহবস্থা হয়ে গেছে খেলোয়াড় মাঠে না থাকলেও সে গোল দিয় ফেলে।একবার কি ভেবে দেখেছেন সে কিভাবে গোল দিল যে? ঠিক সে ভাবে আজকের কিছু সাংবাদিক আছে যারা গোল করে দেয় কিন্তু মাঠে থাকে না। টাকা ছাড়া তারা কোন নিউজ করে না। আমার প্রশ্ন বড় পত্রিকাগুলো কি এইসব খোঁজ রাখে না। সাংবাদিকতার নামে হাজার হাজার টাকা চাঁদা নেয় কিছু সাংবাদিক নামধারী নষ্ট সাংঘাতিক। আমি নিজে চোখে দেখেছি সাংবাদিক নামধারী কিছু লোক সংবাদ লেখার জন্য টাকা নেয় আবার সংবাদ লিখবেনা এই শর্তেও টাকা নেয়।

*

ছি ছি কত লজ্জা জনক ব্যাপার কাজ সে করেছে একবারও কি ভেবে দেখেছেন? আসলে সে সাংবাদিক ছিল ঠিক তবে ছিল সাংবাদিক নামধারী সন্ত্রাসী। তাই আমি সকল সাংবাদিক ভাইদের কাছে এইটুকু অনুরোধ করব আপনারা যারা এখনো পর্যন্ত ওই নোংরা মন মানসিকতা নিয়ে আছেন তারা এগুলা এখুনি পরিহার করুন। দরকার নেয় আপনি এসব নষ্ট সাংবাদিকতা করার। আপনারা যদি আপনাদের নামের পাশে সাংবাদিক নামটা ব্যবহার করতে চান তো তাহলে সাংবাদিকতার আর্দশকে বজায় রেখে কাজ করুন। সত্যভাবে কথা বলুন, সত্য পথে চলুন তাহলে কেউ আপনাকে একটা আঙ্গুল তুলে কথা বলতে পারবেনা। সবসময় অসহায়দের পাশে থাকবেন। নিজের এবং আশ পাশের সবার কথা তুলে ধরবেন। তখন আপনি সাংবাদিক নামটা ব্যবহার করেও শান্তি পাবেন।সাংবাদিকরা দালালি ছাড়ুন আর দালালরা সংবাদিকতা ছাড়ুন !! নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলি সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত থেকে আমি নিজে যখন কিছু সাংবাদিকের বিভিন্ন কর্মকান্ড দেখে সমালোচনা মূখর হই,তখন আমার সহকর্মীরাই আমার দিকে তেড়ে আসেন।আমাদের এই দেশে সবকিছু গোষ্ঠিবদ্ধ ভাবে বিবেচনার এক সংস্কৃতি আমরা চালু করেছি।যেখানে যাই ঘটুক না কেন আমরা সবগুলোকে নিজেদের দলসূত্রে বেঁধে ফেলি। “সাংঘাতিক”,চাঁদাবাজ, ব্ল্যাকমেইল ,বলে লোকে নিন্দা করে থাকে।এর কারন হচ্ছে অপ-সাংবাদিকতা।

**

একজন ভালো সাংবাদিক হতে হলে কমন সেন্স, লেখালেখির যোগ্যতা, ভাষাগত দক্ষতা, চাপ সহ্য করার ক্ষমতা, সবার সঙ্গে ভাব জমানোর ক্ষমতা আর পড়াশোনা অন্তত গ্রাজুয়েট। কিন্তু যারা নিজের নাম লিখতেই কষ্ট হয় তারা নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেয় কিভাবে? কে দেয় তাদের স্বীকৃতি। কে দেয় তাদের এ সুযোগ। এই সমস্যার বড় কারণ হরেদরে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার সুযোগ। এই সুযোগ নিয়ন্ত্রন করতে হবে এবং এই নিয়ন্ত্রন আরোপে প্রকৃত সাংবাদিকদের সাহসী উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। অনেকে সাংবাদিকতার (লেবাস) পরিচয় দিয়ে নিজের হামলা, মামলা থেকে পরিত্রান, সরকারি বেসরকারি অফিসে গিয়ে ধমক দিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর খবর প্রচার করে চাকুরীচ্যুাতির ভয় দেখিয়ে নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য নিয়মিত হয়রানী করে কাজ আদায় করা, রাস্তায় ট্রাফিক আইন ভাঙ্গা, সর্বোপরি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসি, জন সাধারণকে ব্লেইকমেইল করে আসা তাদের নিত্যদিনের কাজ হয়ে দাড়িয়েছে। এসব ‘সাংবাদিক’দের দায় নিতে হচ্ছে প্রকৃত সাংবাদিকদেরকে। হাতে কাগজ-কলম ধরিয়ে দিয়ে সংবাদ লিখতে বল্লে এরা এতে নারাজ। অথচ এমন কোন অফিস-প্রতিষ্ঠান নেই যে, এদের দেখা না যায়। এদের পেশা ও নেশা হচ্ছে, ভয়-ভীতি দেখিয়ে টু-পাইস ইনকাম করা। এর থেকে পরিত্রান পেতে হলে যোগ্যতা সম্পন্ন সাংবাদিক দরকার।

***
দরকার একটি সুন্দর নীতিমালা যেখানে সাংবাদিকদের নুন্যতম একাডেমিক (গ্র্যাজুয়েট) এবং সাংবাদিকতা পেশার সনদধারী। তাহলে এসব সংবাদকর্মীরা আর সাধারণ মানুষকে হয়রানী করতে পারবেনা। সাংবাদিকতার মতো মহান পেশার উপর কোন রকমের অপবাদ আসবেনা। যে কারো হাতে যেভাবে ছুরিকাঁচি তুলে দিয়ে অপারেশনের সার্জন বানিয়ে দেয়া গ্রহনযোগ্য হয় না, তেমনি যে কারো হাতে কলম-ক্যামেরা তুলে দিয়ে তাঁকে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের দায়িত্ব দেওয়াটাও গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়। এসব নূন্যতম জ্ঞানবিহীন অদক্ষরা সদ্য শিং গজানো বাছুরের মতো সাংবাদিকরা বুকে আইডি কার্ড ঝুলিয়ে উন্মত্তের মতো আচরণ করে আসছে প্রতিনিয়ত এতে করে সাংবাদিকদের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এখন কথা হচ্ছে এসব সামলাবে কে? আমি এজন্য একটি বিধিমালা তৈরির পক্ষে। সততা, বস্তুনিষ্ঠতা, মেধা ও সাহসিকতা না থাকলে সাংবাদিকতা পেশায় আসা উচিৎ নয়। সাংবাদিকতাকে সনদের আওতায় আনা উচিত। কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না নিয়ে সাংবাদিকতা করার সুযোগ থাকার কারনে দেশে অপ-সাংবাদিকতা দিন দিন বেড়েই চলছে। আর এতে করে কলংকিত হচ্ছে এ মহান পেশা। এলএলবি পাশ না করে কেউ আইনজীবী হতে পারেন না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দিয়ে তাদেরকে সনদ অর্জন করতে হয়। তদরূপ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও একটি নীতিমালা প্রয়োজন। এ নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সনদ অর্জনের মাধ্যমে সাংবাদিকতায় আসলে অপ-সাংবাদিকতা রোধ হবে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হবে।সনদ থাকার কারণে আমরা সাধারণ মানুষরা বুঝতে পারি যে এই চিকিৎসক কি আইনজীবি আসলেই আমাকে সেবা দেয়ার যোগ্যতা অর্জণ করেছেন কী না। সেবা প্রদানে গুরুতর কোনো অনৈতিকতা থাকলে আমরা বিচারপ্রার্থী হতে পারি এবং দায়ী ব্যক্তির সনদ বাতিল করে তাঁকে পেশা থেকে সরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা আছে। তাই এই ধরনের পেশাদারিত্বের নিবন্ধন ও সনদ একজন মানুষকে নিজ পেশায় দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করে।

 

****
আমি আশা করি সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের সনদ দেয়ার এখতিয়ার দিয়ে একটি কর্তৃপক্ষ তৈরির ব্যাপারে মিডিয়া সংশ্লিষ্ঠ সকল মহল গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন। এরকম প্রতিষ্ঠানের রূপরেখা কীভাবে হবে, সনদ পাওয়ার জন্য কোনো প্রশিক্ষন, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্তাবলী কী হবে এ ব্যাপারে দেশের অভিজ্ঞ সংবাদকর্মীদের সহায়তায় একটি গ্রহনযোগ্য সমাধান
পাওয়া সম্ভব।কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জন্য আচরণবিধি তৈরি ও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করবে এবং তাঁদেরকে সেগুলো মেনে চলতে উৎসাহিত এবং ক্ষেত্রবিশেষে বাধ্যও করবে।অনেকেই হয়তো আমার এই প্রস্তাবকে সাংবাদিক নিয়ন্ত্রনের মনোভাব হিসেবে দেখতে চাইবেন। কিন্তু আমার মনে হয় বরং প্রকৃত সাংবাদিকদেরই উচিত হবে এ বিষয়ে অগ্রনী ভুমিকা নেয়া। আমাদের নিজেদের পেশার সুনাম রক্ষার জন্যই সাংবাদিকতার বাগান থেকে আগাছা দূর করার ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে।সমাজে যা কিছু ক্ষতিকর তার বিরুদ্ধেই আমাদের অবস্থান। দুর্নীতি-অনিয়ম,সন্ত্রাস,ইয়াবা কিংবা মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। এ কাজ করতে গিয়ে হয়তো জীবনও উৎসর্গ করা হতে পারে। সেজন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশ ও জনগণের জন্য সাংবাদিকতা করতে হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর....

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
১,২২৬,২৫৩
সুস্থ
১,০৫০,২২০
মৃত্যু
২০,২৫৫
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর