বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন
ই-পেপার

লকডাউনে পুলিশ কর্তৃক নির্বিচারে লাঠিচার্জে গোমস্তাপুরবাসী অতিষ্ঠ

প্রতিনিধি নাম: / ৪৭ বার
সময় : রবিবার, ৩০ মে, ২০২১, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি:

করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাত দিনের বিশেষ লকডাউন ঘোষণা করেছে। শনিবার সকালে রহনপুর পৌরসভার ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা আঃ লীগের সহ-সভাপতি শেফালী বেগম ও তার ছেলে নুহু ইসলাম সকাল সাড়ে ১০টায় মোটরসাইকেলযোগে ৬ নং ওয়ার্ড থেকে ৪ নং ওয়ার্ডে যাওয়ার পথে কলেজ মোড়ে অস্থায়ী পুলিশ চেকপোস্টে তাদের বাঁধা প্রদান করে। এবং তাদের পরিচয় পত্র দেখালে কথা না শুনে হঠাৎ দায়িত্বরত পুলিশ এস. আই. শরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগী কনস্টেবল ৭/৮ জন মিলে লাঠিচার্জ করে গুরুতর জখম করে।

তারপর ঘটনার প্রতিকার চেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কাউন্সিলর শেফালী বেগম বলেন, আমি ও আমার ছেলে ত্রাণ বিতরণ এর জন্য কলেজ মোড় দিয়ে যাচ্ছিলাম। আমাদের পরিচয় দেওয়ার সত্বেও কোন কথা না বলে ছেলেকে এস.আই. শরিফুল ইসলাম ও ৭/৮ জন কনস্টেবল এলোপাতাড়িভাবে মারধর করতে থাকে। আমি মারতে বারণ করার সত্ত্বেও ও মারতে বাঁধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করে জখম করে।

তাছাড়া এস.আই. শরিফুল ইসলাম বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদান করে এবং বেশি কথা বললে মাদক মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে থানায় পাঠিয়ে দিবে এই হুমকি প্রদান করে।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও মানবাধিকার কর্মী সিরাজুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, আমরা সাধারণ মানুষের জন্য মাঠে করোনাকালীন সময়ে কাজ করে যাচ্ছি, ইতিপূর্বেও করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে মেডিকেলে গত ২৮মে যাচ্ছিলাম। আমাকে পুলিশ যেতে দেয়নি।

আর আমিও দেখেছি একজন তরকারি ক্রয় করে বাড়ি ফেরার পথে তাকে বাড়ি যেতে দেইনি, উল্টো লাঠিচার্জ করেছে তার ওপরে। ওষুধের প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে ওষুধ কিনতে যাওয়ার পথে তাকেও যেতে দেয়নি এই পুলিশ। হ্যাঁ এটা সত্য! করোনার ভয়াবহতা আমাদের জেলায় অনেকটা বেড়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকাটা খুবই সুন্দর হচ্ছে।

কিন্তু যারা নিষেধাজ্ঞার বাইরে আছে তাদেরকেতো কার্যক্রম করতে দিতে হবে। মানুষের জীবন-জীবিকার তো প্রয়োজন রয়েছে। এ পুলিশ জাহিদ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য সাধারন জনগনের প্রতি অমানবিকভাবে লাঠিচার্জ করে যাচ্ছে।এই পুলিশকে দ্রুত এখান থেকে ট্রান্সফার করা হোক এই দাবি জানাচ্ছি।

আরো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহাবের অসুস্থ স্ত্রীকে তার ছোট ছেলে আব্দুল কুদ্দুস তার আম্মাকে দেখতে যেতে চাইলে তাকে যেতে দেয়া হয় নি। বরং তাকে অমানবিকভাবে লাঠিচার্জ করে পেটানো হয়েছে।তিনি আরো বলেন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুর রহমান ও তার সহকর্মী পুলিশগণ বৃদ্ধ ও বয়স্কদের কোন কিছু জিজ্ঞাসাবাদ না করে লাঠিচার্জ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।এমনটি আমার সাথে করেছে তার অপকর্মের কিছু তথ্য থাকায়।

আরো একজন স্বাস্থ্য সহকারি আব্দুল মালেক বলেন, আমি করোনা রোগীদের রিপোর্ট করতে যাচ্ছিলাম। সে সময় আমাকে বাঁধা দেয়া হয়েছিল। সেই রিপোর্ট আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সিভিল সার্জন অফিসে নিয়ে যাওয়ার পথে আমাকে কলেজ মোড়ে বাঁধা দেই এই পুলিশ। এবং আমার গাড়িতে লাঠিচার্জ করে।আমি এর বিচার চাই, কারণ তারা যে ভাবে সাধারণ মানুষের উপর লাঠিচার্জ করছে এটা খুবই দুঃখজনক।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদেরকেও পুলিশের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর....

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
১,২১০,৯৮২
সুস্থ
১,০৩৫,৮৮৪
মৃত্যু
২০,০১৬
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
১৬,২৩০
সুস্থ
১৩,৪৭০
মৃত্যু
২৩৭
স্পন্সর: একতা হোস্ট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর