শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০২:০৮ অপরাহ্ন
ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যায় জড়িত ৩ জন আটক লকডাউন এর সপ্তম দিনেও আগৈলঝাড়ার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা গলাচিপায় রুহুল হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি গ্রেপ্তার রাজশাহী সাইবার ক্রাইম টিমের জালে আটক এক প্রতারক রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত আইডিয়াল কলেজ,ধানমন্ডিতে স্নাতক(সম্মান)শ্রেণিতে ভর্তি চলছে। নড়াইল কালিয়ার ৪ নং মাউলি ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সী জহিরুল হক জুংগু মৃত্যুবরন করেন । নড়াইল জেলার কঠোর লকডাউন প্রশাসনের দুর্বল বলেছেন সাংবাদিক এনামুল হক ক্যান্সারে আক্রান্ত পিতা’কে বাঁচানোর আকুতি কলেজ পড়ুয়া মেয়ের নড়াইল জেলাব্যাপী সরকার কতৃক কঠোর লকডাউনের ঘোষনাকে অমান্য করছে জনগন।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রাচীন শিল্পগুলো বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে! হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও বেত শিল্প

প্রতিনিধি নাম: / ২৫ বার
সময় : সোমবার, ১৪ জুন, ২০২১, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ন

 

নয়ন বাবু, নওগাঁ : আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রাচীন শিল্পগুলো বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। যান্ত্রিক যুগে হারিয়ে যাচ্ছে নানান শিল্প ও শিল্পকর্ম। এরই ধারাবাহিকতায় নওগাঁর সাপাহারে সময়ের সাথে সাথে ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বেতশিল্প। বর্তমানে বেতের তৈরি পণ্যের আর কদর নেই বললেই চলে। যার ফলে ঐতিহ্য হারাতে বসেছে বেতশিল্প।

একসময় মাঠে চাষ হতো বেত গাছ। এছাড়াও যত্রত্র ভাবে হামেশাই চোখে পড়তো বেতগাছ। আর সে সময়গুলোতে গ্রামীণ জনপদের মানুষ গৃহস্থালি, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বেত ও বাঁশের তৈরি সরঞ্জামাদি ব্যবহার করতেন। বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত প্রায় সবখানেই চোখে পড়তো বেতের তৈরী আসবাবপত্র। এখন সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে এসব চিরচেনা চিত্র।বর্তমান সময়ে বেত শিল্প প্রায় বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।
প্লাস্টিক ও অন্যান্য বিভিন্ন সামগ্রীর কদর বেড়ে যাওয়ার ফলে এসব কুটির শিল্পের চাহিদা এখন আর নেই বললেই চলে। এছাড়াও পর্যাপ্তহারে বেতের চাষ না হওয়ায় কাঁচামালের ঘাটতির কারনেও দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়ছে এসব কুটির শিল্প। বাজার দখল করেছে প্লাস্টিক ও এ্যলুমিনিয়ামের তৈরী নানা জাতের আসবাব পত্র। প্লাস্টিক পণ্য টেকসই ও স্বল্পম‚ল্যে পাওয়ায় সাধারণ মানুষ চাহিদা হারিয়ে ফেলেছে এসব কুটির শিল্প হতে। প্রবীণরা বলছেন, এক সময় দেশের বিস্তীর্ণ জনপদে চাষ হতো বাঁশ ও বেত। যা দিয়ে তৈরি হতো গৃহস্থালী ও সৌখিন আসবাব পত্র। ঘরের কাছের ঝাড় থেকে তরতাজা বাঁশ-বেত কেটে গৃহিনীরা তৈরি করতেন হরেক রকমের পণ্য। এসব বিক্রি করেই চলতো তাদের জীবনযাপন। তবে এখনো মাঝে মধ্যে গ্রামীণ উৎসব ও মেলাগুলোতে বাঁশ ও বেতজাত শিল্পীদের তৈরি খোল, চাটাই, খলুই, ধামা, টোনা, পাল্লা, মোড়া, বুক সেল্ফ, ঝাড়নি, চালন ইত্যাদি চোখে পড়ে।
হস্তশিল্পের কদর কমে গেলেও বেড়েছে বাঁশের দাম। আর বেত তো চোখে পড়েনা বললেই চলে। যার ফলে বাঁশ ও বেতের তৈরী জিনিস পত্রের দাম স্বভাবতই একটু বেশি হবার ফলে ক্রেতাবিমূখ সময় পার করছেন বিক্রেতারা। অপরদিকে প্লাস্টিক, সিলভার ও মেলামাইন জাতীয় হালকা টেকসই সামগ্রী নাগরিক জীবনে গ্রামীণ হস্তশিল্পের পণ্যকে হটিয়ে দিয়েছে।
উপজেলা সদরে মহুরীপট্টি এলাকায় বাঁশের পণ্য কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, বাঁশ-বেতের জিনিস বর্তমানে তেমন কোন কাজে আসেনা। তবে একটি খইচালা কিনতে এসছেলাম। তবে এটির দাম শুনে তো কেনার সাধ হারিয়ে গেছে।

বাঁশ ও বেতের কারিগর নারান টপ্য বলছেন, বর্তমানে বেতের কাজ আর নেই বললেই চলে। তবে বাঁশের কিছু জিনিসপত্র বানাই। আর এগুলো বাজারে বিক্রি করতে আসলে ক্রেতা সংকটে পড়তে হয়। দাম বেশির কারন জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, বর্তমানে পূর্বের তুলনায় বাঁশের দাম বেশি হবার ফলে জিনিসের দাম একটু বাড়তির মুখে। আমরা কম দামে কাঁচামাল কিনতে পারলে আমাদের তৈরীকৃত জিনিসও কম দামে বেঁচতে পারবো।

সবমিলিয়ে বাঁশ-বেতের জিনিপত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় একদিকে যেমন সংকটে পড়েছেন কারিগররা অপরদিকে মানুষ হারাতে বসেছে প্রাচীন ঐতিহ্য। এভাবে প্রাচীন ঐতিহ্যগুলো হারিয়ে গেলে আগামী প্রজন্ম এগুলোর সম্পর্কে জানতে পারবেনা। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে বাঁশ-বেতের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যগুলো টিকিয়ে রাখা হোক এমনটাই আশাবাদী সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর....

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
১,২২৬,২৫৩
সুস্থ
১,০৫০,২২০
মৃত্যু
২০,২৫৫
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর