শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০২:১৭ অপরাহ্ন
ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
সংবাদ শিরোনাম
ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জে বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যায় জড়িত ৩ জন আটক লকডাউন এর সপ্তম দিনেও আগৈলঝাড়ার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা গলাচিপায় রুহুল হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি গ্রেপ্তার রাজশাহী সাইবার ক্রাইম টিমের জালে আটক এক প্রতারক রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত আইডিয়াল কলেজ,ধানমন্ডিতে স্নাতক(সম্মান)শ্রেণিতে ভর্তি চলছে। নড়াইল কালিয়ার ৪ নং মাউলি ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মুন্সী জহিরুল হক জুংগু মৃত্যুবরন করেন । নড়াইল জেলার কঠোর লকডাউন প্রশাসনের দুর্বল বলেছেন সাংবাদিক এনামুল হক ক্যান্সারে আক্রান্ত পিতা’কে বাঁচানোর আকুতি কলেজ পড়ুয়া মেয়ের নড়াইল জেলাব্যাপী সরকার কতৃক কঠোর লকডাউনের ঘোষনাকে অমান্য করছে জনগন।

অ্যান্টিবায়োটিক কেন সাত দিন খেতে বলা হয়

প্রতিনিধি নাম: / ৩৩ বার
সময় : বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১, ৫:২৯ পূর্বাহ্ন

অনলাইন ডেস্কঃ

জীবনে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খায়নি, এমন মানুষ খুব কম আছে। খানিক পড়ালেখা জানা দেশি লোকজনের কাছে এই অ্যান্টিবায়োটিক একটি কমন ওষুধ। আমাদের দেশের মতো এরকম অনেক উন্নয়নশীল দেশে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ছড়াছড়ি। আবার এমন অপব্যবহারের ফলাফল—বিশ্ব জুড়ে অ্যান্টিবায়োটিকের উলটো ফল দেখা দিয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টান্ট। যে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে জীবাণুর বিরুদ্ধে, সেই অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে জীবাণু উলটো প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

পৃথিবীতে বিলিয়ন বিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া আছে। আমাদের শরীরের ভেতর এবং বাহিরে এমন হাজার হাজার ব্যাকটেরিয়া আছে। কিন্তু সব ব্যাকটেরিয়া আমাদের ক্ষতি করে না। কেবল কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া খাবার, পানি, পরিবেশ বা কোনোভাবে শরীরে ঢুকলে তখন সমস্যা করে। ব্যাকটেরিয়ার কারণে সমস্যাগুলোকে ইনফেকশন ডিজিজ বলে।

অ্যান্টিবায়োটিক একপ্রকার ব্যাকটেরিয়া দমনের মেডিসিন। শরীরে আমাদের হাজার রকমের ইনফেকশন জাতীয় সমস্যা হয়। এই ইনফেকশন হওয়ার প্রধান কারণ ব্যাকটেরিয়া। আর এই ব্যাকটেরিয়া মারতে অ্যান্টিবায়োটিক। মনে রাখা দরকার, অ্যান্টিবায়োটিক শুধু ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, অ্যান্টিবায়োটিক কখনো ভাইরাসের বিপক্ষে কাজ করে না। ভাইরাস দমনে যে মেডিসিন ব্যবহার করা হয়, তাকে বলে অ্যান্টিভাইরাল।

বিংশ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষের গড় আয়ু ছিল ৪০ বছর মাত্র। এর প্রধান কারণ ছিল হাজার হাজার রোগজীবাণুর ইনফেকশনে মানুষ সহজে মারা যেত। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্যারাসাইট, ফাঙ্গাস এসব। এদের মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যেত। যেমন : যক্ষ্মা, কলেরা, প্লেগ, সিফিলিস। আগে মানুষ এইসব রোগেই মারা যেত বেশি।

৩ হাজার বছর আগে প্রাচীন মিশর, খ্রিষ্টপূর্ব গ্রিক, রোমানরা মাঝেমধ্যে কিছু কিছু রোগে রুটি বা বাসি খাবারের মধ্যে জন্ম নেওয়া মোল্ড খেত। কারণ, তারা জানত যে ঐসব খেলে কিছু কিছু রোগ ভালো হয়ে যেত। এই মোল্ড একধরনের ফাঙ্গাস। ১৬৭৪ সালের আগ পর্যন্ত মানুষ জীবাণু সম্পর্কে কিছুই জানত না ডাচ বিজ্ঞানী লিউয়েন হুক ঐ সময়ে প্রথম মাইক্রোস্কোপের নিচে ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান। তারপর অনেক বছর কেটে গেলেও ব্যাকটেরিয়াগুলো যে ইনফেকশন ঘটাত, তার কোন চিকিত্সা ব্যবস্থা জানত না। ১৯২৮ সালে ব্রিটিশ ডাক্তার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং এমন এক ধরনের মোল্ড থেকে প্রথম একটি কেমিক্যাল বের করে আনেন, যা ব্যাকটেরিয়া দমনে কাজ করে। সেটি ছিল পেনিসিলিন। ফ্লেমিংয়ের সেই যুগান্তকারী আবিষ্কার ছিল অ্যান্টিবায়োটিকের প্রথম আবিষ্কার।

পেনিসিলিনের সেই আবিষ্কারের পর গত ৯০ বছরে বিজ্ঞানীরা ১০০-এর বেশি অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেছেন একুশ শতকের এই সময় পর্যন্ত। আর এই অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের জীবনকে পুরো পরিবর্তন করে দিয়েছে। অ্যান্টিবায়োটিকের জাদু মানুষকে হাজারো ইনফেকশন থেকে নিত্য বাঁচিয়ে দিল। ডাক্তারদের কাছে ইনফেকশনের কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন যে অমুক অ্যান্টিবায়োটিক সাত দিন খাবেন। কেন এমনটি বলে!

সব মেডিসিন শরীরে কীভাবে কাজ করে তার কিছু নিয়ম আছে। তেমনি অ্যান্টিবায়োটিকের কিছু নিয়ম আছে। সমস্যার ধরন বুঝে পাঁচ দিন, সাত দিন, ১০ দিন, বারো দিন, সর্বোচ্চ ১৪ দিন বা দুই সপ্তাহ অ্যান্টিবায়োটিক দেন চিকিত্সকরা। সঙ্গে কয়টি খাবেন, কখন খাবেন, কীভাবে খাবেন।

ওষুধবিজ্ঞানে একটি কথা আছে, ‘যে কোনো ওষুধ একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত ওষুধ, তার বেশি হয়ে গেলে তা বিষ।’

অ্যান্টিবায়োটিক একটি রাসায়নিক উপাদান, কৃত্রিমভাবে ল্যাবে বানানো হয়। এটি বানানোর সময় পরীক্ষা করা হয় মিনিমাম কতদিন নিয়মিত খেলে ব্যাকটেরিয়াকে পূর্ণভাবে মেরে ফেলতে পারে, শরীরে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে পুরোপুরি থামিয়ে দিতে পারে, তার চেয়ে বেশি কতটুকু কত দিন খেলে শরীরের উলটো ক্ষতি করা শুরু করে। ওষুধবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে অপটিমাল ডোজ। এই মিনিমাম এবং ম্যাক্সিমাম ডোজের সীমারেখার মধ্যে ওষুধটি খেলে তার ভালো ফলাফল পাওয়া যায়, তার চেয়ে কম খেলে ব্যাকটেরিয়া না মরে গিয়ে শরীরে থেকে যেতে পারে, বেশি খেলে শরীরে রাসায়নিক উপাদানটি অতিরিক্ত জমা হয়ে কিডনি, লিভার, পাকস্থলীসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের ক্ষতি করতে পারে, বেশি সাইড ইফেক্ট দেখা দিতে পারে। তাই চিকিত্সকরা একটি আপাত সীমারেখার মধ্যে পাঁচ দিন বা সাত দিন অ্যান্টিবায়োটিক খেতে বলেন, যাতে এই সময়ের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া মরে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া মারতে গিয়ে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে শরীরে ক্ষতির মাত্রার যাতে বেড়ে না যায়।

শুরুতেই বলেছিলাম, বিশ্ব জুড়ে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টান্ট একটি সমস্যা। এখন অনেক ইনফেকশনে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না অনেকের। এর কারণ হলো—অনেকে ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী এই নির্দিষ্ট মাত্রার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওষুধটি খান না। নিউমোনিয়া হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করলেন, তিন দিন খেয়ে ভালো ফিল করায় তিনি ঠিক করলেন আর খাবেন না। আপাত উপসর্গ কমে গেলেও আসলে তিনি তখন ব্যাকটেরিয়া মুক্ত হননি। অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া স্টপ করে দেওয়ার ফলে শরীরে চুপ করে বসে থাকা বাকি ব্যাকটেরিয়াগুলো ধীরে ধীরে রক্তে থাকা ওষুধটির বিরুদ্ধে নিজের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যকে পরিবর্তন করে। পরবর্তী সময়ে কোনো সময় একই জাতের ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকলে নতুন এবং পুরোনো ব্যাকটেরিয়া মিলে নতুন করে আরও সাঁড়াশিভাবে শরীরকে ওষুধটি তার কার্যক্ষমতা হারায়, ব্যাকটেরিয়া প্রতি ।

সালমা আঁখি- দৈনিক সময়ের সংগ্রাম


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর....

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
১,২২৬,২৫৩
সুস্থ
১,০৫০,২২০
মৃত্যু
২০,২৫৫
সূত্র: আইইডিসিআর

সর্বশেষ

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
স্পন্সর: একতা হোস্ট
এক ক্লিকে বিভাগের খবর